বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ট্রেনের সময়সূচী
ঢাকা শহরের ভেতরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বিমানবন্দর এলাকা থেকে কমলাপুরের দিকে যাতায়াত করে। এই রুটটি রাজধানীর সবচেয়ে ব্যস্ত রুটগুলোর একটি। অনেকেই অফিস, ব্যক্তিগত কাজ, পড়াশোনা বা দূরপাল্লার ট্রেন ধরার জন্য কমলাপুর স্টেশনে যান। যদিও রাস্তায় যানজট খুব সাধারণ বিষয়, তবুও ট্রেনে যাতায়াত তুলনামূলক দ্রুত ও স্বস্তিদায়ক। এই রুটে সারাদিনই একাধিক ট্রেন চলাচল করে এবং বেশিরভাগ সময় যাত্রীরা কিছু মিনিটের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছে যান।
বাংলাদেশে রেলওয়ে প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে, তাই শহরের ভেতরে ট্রেন এখন অনেকটাই নির্ভরযোগ্য। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কমলাপুর পৌঁছাতে সাধারণত ১৮–২৫ মিনিট সময় লাগে, তবে ট্রাফিক সমস্যা না থাকায় এটি অন্য পরিবহনের তুলনায় অনেকই সুবিধাজনক।
এই ব্লগ পোস্টে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করব বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ট্রেনের সময়সূচী,
বিকল্প হিসেবে বাসের সার্ভিস তালিকা, টিকেট কাটার নিয়ম এবং যাত্রার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক।
যারা প্রতিদিন এই রুট ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি হবে একটি সংরক্ষণযোগ্য গাইড। আর যারা প্রথমবার যাত্রা করবেন, তাদের জন্য হবে দিকনির্দেশনার একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার।
অতএব, আরামদায়ক ও নির্ভুল যাত্রার জন্য পুরো লেখাটি পড়ুন এবং প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো জেনেনিন।
বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ট্রেনের সময়সূচী

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রুটে প্রতিদিন একাধিক লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল করে। যাত্রীরা সাধারণত খুব কম সময়েই স্টেশনে পৌঁছাতে পারেন। নিচে একটি টেবিল দেওয়া হলো যেখানে প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ট্রেনের আনুমানিক সময়, ভাড়া এবং ফ্রিকোয়েন্সি দেখানো হয়েছে।
এই সময়সূচী যাত্রীর সুবিধার জন্য সাধারণ ধারনা হিসেবে দেওয়া হলো। ট্রেন কখনো ৫–১০ মিনিট আগে বা পরে ছাড়তে পারে।
যাত্রার পূর্বে স্টেশনে বা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে চেক করলে সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাবে।
রুটটি খুব জনপ্রিয় হওয়ায় সাধারণত প্রতিটি ট্রেনেই যাত্রী বেশি থাকে, তাই আগেভাগে প্রস্তুত হওয়াই ভালো।
চলুন এবার নিচের টেবিলটি দেখে নেই—
| ট্রেনের নাম | ভাড়া (প্রায়) | প্রথম ট্রিপ | শেষ ট্রিপ | ফ্রিকোয়েন্সি |
| তুরাগত এক্সপ্রেস | ১০–১৫ টাকা | সকাল ৬:২০ | রাত ১০:৩০ | ঘণ্টায় ১টি |
| টঙ্গী লোকাল | ১০–১৫ টাকা | সকাল ৫:৫০ | রাত ১১:০০ | প্রতি ৪০–৫০ মিনিট |
| নারায়ণগঞ্জ লোকাল | ১০–১৫ টাকা | সকাল ৬:৩০ | রাত ৯:৪৫ | দিনে কয়েকবার |
| জয়দেবপুর লোকাল | ১০–১৫ টাকা | সকাল ৭:১০ | রাত ১০:১৫ | ঘণ্টায় ১টি |
| ময়মনসিংহ লোকাল (শহরভিত্তিক যাত্রা) | ১০–২০ টাকা | সকাল ৮:০০ | রাত ৯:৩০ | নির্দিষ্ট সময় |
| জামালপুর লোকাল | ১০–২০ টাকা | সকাল ৯:১৫ | রাত ৮:৫০ | নির্দিষ্ট সময় |
বাস কোম্পানি, কাউন্টার নাম ও মোবাইল নম্বর সমূহ
যারা ট্রেন নয়, বরং বাসে যাতায়াত করতে চান তাদের জন্যও কয়েকটি নির্ভরযোগ্য বাস সার্ভিস রয়েছে। যদিও বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বাসে যেতে সময় বেশি লাগে, তবে অনেক যাত্রীর জন্য এটি প্রয়োজনীয়।
নিচে বাস কোম্পানির নাম, কাউন্টার লোকেশন এবং যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হলো যাতে প্রয়োজনে যাত্রীরা তথ্য যাচাই করতে পারেন।
এসব বাস সার্ভিস মূলত ঢাকা শহরের ভেতরে চলাচলকারী সিটি সার্ভিস, তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল করে।
ভাড়া সাধারণত রুটভেদে ১৫–৩০ টাকার মধ্যে হয়।
তবে বাস ভ্রমণে যানজটের কারণে কখন সময় বেশি লাগতে পারে।
চলুন তালিকাটি দেখে নেওয়া যাক—
- বাস কোম্পানি: তুরাগ পরিবহন
কাউন্টার: বিমানবন্দর বাস স্ট্যান্ড
মোবাইল নম্বর: ০১৭xx-xxxxxx - বাস কোম্পানি: গাজী পরিবহন
কাউন্টার: খিলক্ষেত
মোবাইল নম্বর: ০১৮xx-xxxxxx - বাস কোম্পানি: সিটিলাইন সার্ভিস
কাউন্টার: বিমানবন্দর রেলস্টেশন সংলগ্ন
মোবাইল নম্বর: ০১৯xx-xxxxxx - বাস কোম্পানি: প্রভাতী পরিবহন
কাউন্টার: উত্তরা-বিমানবন্দর রুট
মোবাইল নম্বর: ০১৬xx-xxxxxx - বাস কোম্পানি: তিতাস পরিবহন
কাউন্টার: বিমানবন্দর বাস স্ট্যান্ড
মোবাইল নম্বর: ০১৩xx-xxxxxx
ট্রেনের টিকেট কেনার পদ্ধতি?

বাংলাদেশে ট্রেনের টিকেট কেনা এখন অনেক সহজ। অনলাইনে টিকেট কাটা ও স্টেশনে গিয়েও টিকেট কেনা যায়। নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো—
প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন কোন দিন এবং কোন সময় ট্রেনে যাত্রা করবেন। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রুটে সাধারণত লোকাল ট্রেন চলে এবং এদের বেশিরভাগই টিকেট ছাড়া উঠার সুযোগ থাকে (প্ল্যাটফর্ম টিকেট অবশ্যই লাগবে)।
যদি অন্য বড় রুটের ট্রেন ব্যবহার করেন যেগুলো বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর হয়ে যায়, সেগুলোর জন্য অনলাইন টিকেট লাগতে পারে।অনলাইনে টিকেট কাটার জন্য ভিজিট করুন: eticket.railway.gov.bdপ্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ব্যবহার করে। অ্যাকাউন্ট তৈরি হলে “Purchase Ticket” অপশনে ক্লিক করুন।যাত্রার তারিখ নির্বাচন করুন।
স্টেশন বাছাই করুন—From: Airport Station এবং To: Kamalapur Station। এরপর ট্রেনের তালিকা দেখা যাবে। আপনার সুবিধাজনক ট্রেন টি সিলেক্ট করুন।আসন শ্রেণী নির্বাচন করুন (যদি বড় রুট হয়)।ভাড়া দেখানো হবে। পেমেন্ট করতে পারবেন bKash, Nagad, Rocket বা Visa/MasterCard দিয়ে।
পেমেন্ট সফল হলে আপনার মোবাইলে SMS যাবে। টিকেট পিডিএফ হিসেবে ডাউনলোডও করতে পারবেন। যাত্রার দিনে প্রিন্ট কপি বা পিডিএফ দেখালেই হবে।মনে রাখবেন: লোকাল ট্রেনের জন্য সাধারণত অনলাইন টিকিট দরকার হয় না। প্ল্যাটফর্ম টিকেট নেওয়া বাধ্যতামূলক (টিকিট কাউন্টার থেকে ১০ টাকা)।
স্টেশনে প্রবেশের পর প্ল্যাটফর্ম ও গেট নম্বর দেখে নিন।ট্রেন ছাড়ার ৫–১০ মিনিট আগে স্টেশনে থাকা ভালো। লোকাল ট্রেনে সাধারণত ভিড় থাকে, তাই আগেই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ান।
নিরাপত্তার জন্য দরজার কাছে দাঁড়াবেন না। যাত্রার সময় আপনার লাগেজ নিজের কাছে রাখুন।
ট্রেন যদি দেরি করে, তাহলে স্টেশনের ডিজিটাল বোর্ড দেখে নিন। ট্রেনের গতি কম হলেও এটি বেশ নির্ভরযোগ্য।ভাড়া কম হওয়ায় এটি কর্মজীবী মানুষের কাছে খুব জনপ্রিয়।যাত্রার সময় ট্রেনের ভেতরে সিগারেট বা উচ্চস্বরে কথা বলা নিষেধ।কমলাপুর স্টেশনে নামলে গেট, টিকেট কাউন্টার, মেট্রো বা রিকশা — সবকিছুই সহজেই পাওয়া যায়।টিকেট রিফান্ড প্রয়োজন হলে রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী তা করতে হয়।উৎসব বা ছুটির দিনে আগেই টিকেট বুক করা ভালো।নিয়ম মেনে চললে যাত্রা হবে নিরাপদ,আরামদায়ক ও ঝামেলামুক্ত।
বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর যেতে কোন ট্রেন সবচেয়ে ভালো?
যেকোনো লোকাল ট্রেনই এই রুটে ভালো বিকল্প। তুরাগত এক্সপ্রেস ও টঙ্গী লোকাল সবচেয়ে নিয়মিত চলে। দ্রুত পৌঁছাতে চাইলে এই দুটি ট্রেন বেছে নিতে পারেন।
এই রুটে কি আগে থেকে টিকেট লাগবে?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লোকাল ট্রেনে আগে থেকে টিকেট লাগে না। তবে প্ল্যাটফর্ম টিকেট নিতে হয়। অন্য দূরপাল্লার ট্রেনে উঠতে চাইলে অনলাইনে টিকেট কাটা বাধ্যতামূলক।
উপসংহার
বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ট্রেনযাত্রা রাজধানীর মধ্যে সবচেয়ে সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী ব্যবস্থাগুলোর একটি। শহরের যানজট এড়িয়ে খুব অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। এই রুটে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ ট্রেন ব্যবহার করেন, তাই সময়সূচী ও টিকেট সম্পর্কিত ধারণা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই গাইডে আমরা সময়সূচী, বাসের তথ্য, টিকেট কেনার নিয়ম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দিক বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি এটি আপনার দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ করে তুলবে।
ট্রেন নির্বাচনের আগে সর্বশেষ সময়সূচী দেখে নেওয়া উচিত।যাত্রার সময় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন এবং স্টেশনের নিয়ম মেনে চলুনআপনার যাত্রা হোক আরামদায়ক, নিরাপদ ও দ্রুত — শুভকামনা রইল।
