Orthopedic Doctor Rangpur1

হাড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রংপুর

রংপুর বিভাগের মানুষের চিকিৎসা সুবিধা দিনে দিনে উন্নত হচ্ছে, বিশেষ করে হাড়, জয়েন্ট ও মেরুদণ্ডের রোগের চিকিৎসায় এখন অনেক দক্ষ ডাক্তার নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ব্যস্ত জীবনযাপন, দুর্ঘটনা, বয়সজনিত পরিবর্তন কিংবা পুষ্টিহীনতা—এ সবকিছুর কারণে হাড়ের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় হঠাৎ ব্যথা, ফ্র্যাকচার, কোমর ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা, আর্থ্রাইটিস, লিগামেন্ট ইনজুরি বা জয়েন্ট ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। রংপুরে এখন এমন অনেক অর্থো সার্জন আছেন যাঁরা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীকে দ্রুত সুরাহা দিতে পারেন।

হাড়ের রোগ নির্ণয়ে এক্স-রে, এমআরআই, সিটি স্ক্যানসহ উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা রংপুরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকেই এখন পাওয়া যায়। রোগের ধরন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হাড়ের চিকিৎসায় ভুল বা দেরি রোগীর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের হাড় বাঁকা হয়ে যাওয়া, খেলাধুলায় ইনজুরি, বয়স্কদের হাড় ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস), স্পাইনাল ডিজঅর্ডার—এসব সমস্যায় রংপুরের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা দক্ষতার সঙ্গে চিকিৎসা প্রদান করছেন।

রোগী সাধারণত চিকিৎসকের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং পূর্বের রোগীর মতামতের ওপর ভিত্তি করে ডাক্তার নির্বাচন করতে চান। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে রংপুরের কিছু পরিচিত হাড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের তালিকা ও তাঁদের যোগ্যতা নিচে তুলে ধরা হলো, যাতে পাঠক সহজে নিজ প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ডাক্তার খুঁজে নিতে পারেন।

হাড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রংপুর

Orthopedic Doctor Rangpur2

রংপুরে অর্থোপেডিক চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফ্র্যাকচার, স্পোর্টস ইনজুরি, মেরুদণ্ডের ব্যথা, আর্থ্রাইটিস বা দুর্ঘটনাজনিত হাড়ের সমস্যা—এসব নিয়ে অনেক রোগী প্রতিদিন চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন। দক্ষ সার্জন, উন্নত যন্ত্রপাতি এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এখন রংপুরে সহজলভ্য হওয়ায় রোগীরা দ্রুত সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন।
এখানে অভিজ্ঞ অর্থো সার্জনরা ফ্র্যাকচার সার্জারি, জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট, আর্থ্রোস্কপি, স্পাইন সার্জারি ও মাংসপেশির নানা সমস্যার চিকিৎসা করে থাকেন। রোগী কোন ধরনের সমস্যায় ভুগছেন, তার ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। নিচে রংপুরের কিছু পরিচিত হাড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের নাম ও তাঁদের যোগ্যতা তুলে ধরা হলো, যা রোগী ও স্বজনদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

আরোও পড়ুনঃ  নর্থ বেঙ্গল হাসপাতাল সিরাজগঞ্জ ডাক্তার লিস্ট

অধ্যাপক ডাঃ শফিকুল ইসলাম

এমবিবিএস (ডিএমসি), এমএস (অর্থো সার্জারি)

অস্থিসন্ধি, অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন

অধ্যাপক ও প্রধান, অর্থোপেডিক সার্জারি

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

অধ্যাপক ডাঃ হামিদুল হক খন্দকার

এমবিবিএস, ডি-অর্থো, এমএস (অর্থো)

অস্থিসন্ধি, আঘাত, অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন

অধ্যাপক ও প্রধান, অর্থোপেডিকস

রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মশিউর রহমান

এমবিবিএস, ডি-অর্থো, এফ-অর্থো (SG), ফেলো (WOC)

হাড়, জয়েন্ট, ট্রমা ও মেরুদণ্ডের অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও সার্জন

অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ডাঃ এ.বি.এম. রাশেদুল আমির

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), ডি-অর্থো (BSMMU)

হাড়, জয়েন্ট, আর্থ্রাইটিস ও ট্রমার চিকিৎসক

পরামর্শদাতা, অর্থোপেডিকস

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ডাঃ এ.বি.এম মোর্শেদ গণি

এমবিবিএস, এমএস (অর্থো সার্জারি), AO Spine Principal Course (সিঙ্গাপুর)

অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন

সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ডাঃ মোঃ আশফাকুর রহমান রোমেল

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (অর্থো সার্জারি)

আরোও পড়ুনঃ  আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট

হাড়, জয়েন্ট, আর্থ্রাইটিস ও ট্রমা বিশেষজ্ঞ

সহযোগী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ডাঃ মোঃ আমিনুর রহমান

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফসিপিএস (অর্থোপেডিক্স)

হাড়, জয়েন্ট, ট্রমা ও মেরুদণ্ড বিশেষজ্ঞ

সিনিয়র কনসালটেন্ট

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

ডাঃ মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য

এমবিবিএস, ডি-অর্থো, এফআইপিএম (ভারত)

হাড়, জয়েন্ট, বাত ও ট্রমা বিশেষজ্ঞ

কনসালট্যান্ট, অর্থোপেডিক্স

রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শরীফুল হক

এমবিবিএস, ডি-অর্থো (BSMMU)

অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ, মেরুদণ্ড ও ট্রমা সার্জন

অধ্যাপক ও প্রধান, অর্থোপেডিক্স বিভাগ

প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর

ডাঃ হযরত আলী

এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (অর্থো-সার্জারি), ফেলো: আর্থ্রোস্কোপি (ভারত)

আর্থ্রোস্কোপি, আর্থ্রোপ্লাস্টি, স্পাইন ও ট্রমা সার্জন

সহকারী অধ্যাপক, আর্থ্রোস্কোপি ও স্পোর্টস ইনজুরি

রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ 

হাড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রংপুর  এই বিষয়ে আপনার মনে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে? তাহলে চলুন জেনে নেই সেই সকল প্রশ্ন ও উত্তরগুলো-

রংপুরে হাড়ের ব্যথা হলে কোন ধরনের ডাক্তার দেখানো উচিত?

হাড়ের ব্যথা, ফ্র্যাকচার, জয়েন্ট সমস্যা বা মেরুদণ্ডের ব্যথা হলে অর্থোপেডিক বা হাড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো উচিত। প্রথমে সাধারণ পরীক্ষা করা হয়, পরে প্রয়োজন হলে এক্স-রে বা এমআরআই করা হয়। চিকিৎসক রোগের ধরন অনুযায়ী ওষুধ, ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি বা সার্জারির পরামর্শ দেন।

কোন লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাড় বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া জরুরি?

হঠাৎ হাত-পা ফুলে যাওয়া, তীব্র ব্যথা, চলাফেরায় অসুবিধা, দুর্ঘটনায় হাড় ভেঙে যাওয়া, জয়েন্টে শব্দ হওয়া বা নড়াচড়া করতে না পারা—এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু হলে জটিলতা কমে এবং সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ে।

আরোও পড়ুনঃ  সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট

উপসংহার

রংপুরকে ঘিরে চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ করেছে। বিশেষ করে হাড়ের ব্যথা বা ফ্র্যাকচার এমন একটি বিষয় যা দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা দাবি করে। রংপুরের দক্ষ হাড় বিশেষজ্ঞরা রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে পরবর্তী পর্যায়ের সার্জারি পর্যন্ত সব ধরনের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।  অনেক মানুষ হাড়ের ব্যথাকে সাধারণ সমস্যা মনে করেন, কিন্তু সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিলে তা বড় ধরনের জটিলতায় পরিণত হতে পারে। 

তাই হাঁটার সময় ব্যথা, জয়েন্টে শব্দ, নার্ভ চেপে যাওয়া, হাত-পা অসাড় হওয়া – এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। রংপুরের চিকিৎসকেরা রোগের ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় স্ক্যানের মাধ্যমে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা দেন।
আজকাল বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওষুধ, ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি ও লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগই সার্জারি ছাড়াই ভালো হয়ে যায়। তবে কিছু গুরুতর রোগ বা দুর্ঘটনায় সার্জারি প্রয়োজন হয়, যেখানে অভিজ্ঞ সার্জনের ভূমিকা অপরিহার্য।

রংপুরের ডাক্তারদের অভিজ্ঞতা, হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা এবং রোগীদের সন্তুষ্টির হার প্রমাণ করে যে এখানকার অর্থোপেডিক চিকিৎসা দেশের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়।
নিজের হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি গ্রহণ, ব্যায়াম এবং স্বাভাবিক ওজন ধরে রাখার মতো অভ্যাসও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *