কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী
ঢাকার ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর রুটে চলাচল করেন। এই রুটটি রাজধানী ও গাজীপুর অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী—সবাই প্রতিদিনই দ্রুত ও আরামদায়ক পরিবহন ব্যবস্থার জন্য রেলের ওপর নির্ভর করেন। ট্রেনে যাতায়াত করলে যানজটের ঝামেলা নেই, সময় বাঁচে এবং খরচও তুলনামূলক কম। কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ট্রেন সাধারণত দিনে বহুবার চলাচল করে, তাই যাত্রীদের জন্য সময় বেছে নেওয়া খুব সহজ।
এ রুটে লোকাল, মেইল ও ইন্টারসিটি—সব ধরনের ট্রেন পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন সময়সূচীতে চলে। ফলে ভোর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রীরা সহজেই ট্রেন ধরতে পারেন। যারা এই রুটে নতুন, তাদের জন্য সময়সূচী, টিকেট কেনার নিয়ম এবং বাস বিকল্প খুবই সহায়ক তথ্য।
এই বিস্তারিত গাইডে আমরা ধাপে ধাপে দেখাব কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়া, বাস বিকল্প, টিকিট কেনার প্রক্রিয়া এবং যাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
পুরো লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি খুব সহজেই নিজের যাত্রা পরিকল্পনা করতে পারবেন এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর ট্রেনের সময়সূচী

কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর রুট বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত রুটগুলোর একটি। প্রতিদিন বিভিন্ন লোকাল ও ইন্টারসিটি ট্রেন এই পথে যাত্রী পরিবহন করে। সাধারণত কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর পৌঁছাতে ৩০–৪০ মিনিট সময় লাগে। এই রুটে সকাল, দুপুর ও রাতে একাধিক ট্রেন চলায় যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো সময় বেছে নিতে পারেন।
টেবিলের নিচে দেওয়া তথ্যগুলো আনুমানিক সময়সূচী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যাত্রার আগে সর্বশেষ সময় অবশ্যই যাচাই করা ভালো।
ট্রেনগুলো সাধারণত সময়মতো ছাড়ে, তবে কখনো কখনো ৫–১০ মিনিট উঠানামা হতে পারে।
এখন চলুন টেবিলটি দেখে নেই—
| ট্রেনের নাম | ভাড়া (প্রায়) | প্রথম ট্রিপ | শেষ ট্রিপ | ফ্রিকোয়েন্সি |
| টঙ্গী লোকাল | ১০–১৫ টাকা | সকাল ৫:৫০ | রাত ১১:০০ | প্রতি ৪০–৫০ মিনিট |
| জয়দেবপুর লোকাল | ১০–১৫ টাকা | সকাল ৭:১০ | রাত ১০:১৫ | ঘণ্টায় ১টি |
| তুরাগত এক্সপ্রেস | ১০–১৫ টাকা | সকাল ৬:২০ | রাত ১০:৩০ | দিনে কয়েকবার |
| ধলেশ্বরী কমিউটার | ২০–৩০ টাকা | সকাল ৭:৪৫ | সন্ধ্যা ৭:৩০ | নির্দিষ্ট সময় |
| জামালপুর এক্সপ্রেস (শহরভিত্তিক অংশ) | ২০–৩০ টাকা | সকাল ৯:১৫ | রাত ৮:৫০ | নির্দিষ্ট সময় |
| ময়মনসিংহ লোকাল | ২০–৩০ টাকা | সকাল ৮:০০ | রাত ৯:৩০ | নির্দিষ্ট সময় |
বাস কোম্পানি, কাউন্টার নাম ও মোবাইল নম্বর সমূহ
যারা ট্রেনে না গিয়ে বাসে যাতায়াত করতে চান, তাদের জন্য ঢাকার ভেতরে থেকে জয়দেবপুর যাওয়ার বেশ কিছু বাস সার্ভিস রয়েছে। অনেকেই বাস ব্যবহার করেন কারণ বাসের স্টপেজ বেশি, ফলে নামা-ওঠা সুবিধাজনক।
এ রুটে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি নির্ভরযোগ্য বাস কোম্পানির কাউন্টার শহরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। যাত্রীরা চাইলে কাউন্টারে ফোন করে সময়, ভাড়া বা চলাচলের তথ্য নিশ্চিত করতে পারেন।
বাসগুলো সাধারণত সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিয়মিত চলে এবং ভাড়া ট্রেনের তুলনায় একটু বেশি হলেও শহরের মধ্যে যাতায়াতে সুবিধাজনক। তাই ট্রেন বাদে বিকল্প হিসেবে বাসের তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।
এখন চলুন নিচের তালিকাটি দেখা যাক—
- বাস কোম্পানি: টঙ্গী পরিবহন
কাউন্টার: কমলাপুর বাস স্ট্যান্ড
মোবাইল নম্বর: ০১৭xx-xxxxxx - বাস কোম্পানি: উত্তরা পরিবহন
কাউন্টার: মতিঝিল
মোবাইল নম্বর: ০১৮xx-xxxxxx - বাস কোম্পানি: গাজী পরিবহন
কাউন্টার: কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন
মোবাইল নম্বর: ০১৯xx-xxxxxx - বাস কোম্পানি: সিটিলাইন সার্ভিস
কাউন্টার: মালিবাগ
মোবাইল নম্বর: ০১৬xx-xxxxxx - বাস কোম্পানি: তিতাস পরিবহন
কাউন্টার: গুলিস্তান
মোবাইল নম্বর: ০১৩xx-xxxxxx
ট্রেনের টিকেট কেনার পদ্ধতি?

বাংলাদেশে ট্রেনের টিকেট কেনা এখন আগের চেয়ে অনেক সুবিধাজনক। অনলাইন সিস্টেম চালু থাকায় যাত্রীরা ঘরে বসেই টিকেট কাটতে পারেন, আবার স্টেশন থেকেও টিকেট কেনা যায়।
নীচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়াটি দেওয়া হলো—
প্রথমে ঠিক করুন কোন দিন এবং কোন ট্রেনে যাত্রা করবেন।কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর রুটে বেশিরভাগ লোকাল ট্রেনে টিকেট ছাড়াই ওঠা যায়, তবে প্ল্যাটফর্ম টিকেট নিতে হয়। যদি ইন্টারসিটি বা নির্দিষ্ট ট্রেনে যাত্রা করেন, তাহলে অনলাইন টিকেট প্রয়োজন হতে পারে।
অনলাইনে টিকেট কাটতে ভিজিট করুন: eticket.railway.gov.bdপ্রথমবার হলে একটি একাউন্ট খুলতে হবে আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল ব্যবহার করে।এরপর “Purchase Ticket” বাটনে ক্লিক করুন। যাত্রার তারিখ নির্বাচন করুন।স্টেশন নির্বাচন করুন—From: কমলাপুর, To: জয়দেবপুর।
নির্দিষ্ট তারিখে কোন ট্রেনগুলো চলছে, তা তালিকা আকারে দেখানো হবে। আপনার সুবিধামতো ট্রেনটি নির্বাচন করুন।আসন শ্রেণী নির্বাচন করুন—শোভন, চেয়ার, এসি ইত্যাদি (যদি বড় রুটের ট্রেন হয়)। ভাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানো হবে।এখন পেমেন্ট অপশনে যান। পেমেন্ট করা যায় bKash, Nagad, Rocket, Visa বা MasterCard দিয়ে। পেমেন্ট সফল হলে টিকেট ই-মেইল ও এসএমএস দুটোতেই চলে যাবে।
টিকেট ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখতে পারেন, অথবা মোবাইলে দেখালেও হয়।প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে প্ল্যাটফর্ম টিকেট প্রয়োজন—১০ টাকা।যাত্রার কমপক্ষে ১৫ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছান প্ল্যাটফর্ম নম্বর ডিজিটাল বোর্ডে দেখে নিন। ভিড় এড়াতে আগেই লাইনে দাঁড়ান।
ট্রেনে ওঠার সময় ভদ্রভাবে আচরণ করুন এবং হ্যান্ডেল ধরে উঠুন। যাত্রা চলাকালে দরজার কাছে দাঁড়ালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে, তাই মাঝখানে থাকুন।আপনার লাগেজ নিজের কাছে রাখুন।উৎসবের মৌসুমে টিকেট আগে থেকেই কেটে রাখা ভালো।যদি টিকেট রিফান্ড করতে চান, তবে রেলওয়ের নিয়ম অনুসারে তা করতে হবে।লোকাল ট্রেনে কোনো আসন সংরক্ষণ থাকে না।ইন্টারসিটি ট্রেনে যাত্রা করলে সংরক্ষিত আসন পাবেন। টিকেট হারিয়ে গেলে অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে আবার ডাউনলোড করা যায়।রেলওয়ের হেল্পলাইন ব্যবহার করলে যাত্রা সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়।নিয়ম মেনে চললে যাত্রা হবে আরামদায়ক, নিরাপদ এবং সময়নিষ্ঠ।
কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর যেতে কোন ট্রেন সবচেয়ে ভালো?
সব ট্রেনই ভালো, তবে টঙ্গী লোকাল ও জয়দেবপুর লোকাল সবচেয়ে নিয়মিত চলে। দ্রুত যেতে চাইলে এই দুইটি ট্রেনই ভালো বিকল্প।
এই রুটে কি অনলাইন টিকিট লাগে?
লোকাল ট্রেনের জন্য সাধারণত অনলাইন টিকিট লাগে না। তবে ইন্টারসিটি বা দূরপাল্লার ট্রেন ব্যবহার করলে অবশ্যই অনলাইনে টিকেট কাটা প্রয়োজন হয়।
উপসংহার
কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর রুট দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত রেলপথগুলোর একটি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই রুট ব্যবহার করেন কাজ, পড়াশোনা বা অন্য প্রয়োজনীয় কাজে। রেল যাত্রার সুবিধা হলো—দ্রুততা, কম খরচ ও নির্ভরযোগ্যতা। এই গাইডে সময়সূচী, ভাড়া, বাস বিকল্প এবং টিকেট কেনার পূর্ণাঙ্গ তথ্যতুলে ধরা হয়েছে, যা নিয়মিত যাত্রী ও নতুনদের জন্য সমানভাবে সহায়ক। যাত্রা করার আগে সময়সূচী সম্পর্কে ধারণা নিয়ে নিলে ভ্রমণ আরও সহজ হয়। ট্রেনে যাত্রা করতে চাইলে নিরাপত্তা, নিয়ম ও সঠিক স্টেশন ব্যবহারের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি। এই রুটে প্রতিদিন এত বেশি ট্রেন চলছে যে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো সময় বেছে নিতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত, আপনার যাত্রা হোক নিরাপদ, আরামদায়ক ও সময়মতো।
